“ভিক্ষা নয়, কর্মসংস্থানই হোক সমাধানের পথ” — এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ইতিহাস ফাউন্ডেশন অসহায় ও বেকার মানুষদের জন্য স্বাবলম্বী প্রকল্প পরিচালনা করছে। আমরা বিশ্বাস করি, সাময়িক ত্রাণ বা সাহায্য মানুষের অভাব সাময়িকভাবে দূর করলেও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য কর্মসংস্থানের কোনো বিকল্প নেই।
🏗️ প্রকল্প প্রস্তাবনা: স্বাবলম্বী প্রকল্প
স্লোগান: “ভিক্ষা নয়, কর্মই হোক দারিদ্র্য জয়ের চাবিকাঠি।”
১. প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো ব্যক্তিকে সাময়িক সাহায্য না করে তাকে স্থায়ীভাবে আয়ের উৎস তৈরি করে দেওয়া।
- দারিদ্র্য বিমোচন: অভাবী পরিবারগুলোকে পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্ত করা।
- দক্ষতা উন্নয়ন: বেকার ও অদক্ষ জনশক্তিকে কারিগরি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা।
- আমানত রক্ষা: দাতাদের দানের অর্থ সঠিক ও যোগ্য (হকদার) ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়া।
- নৈতিক পুনর্গঠন: উপার্জনের পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধ ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।
২. উপকারভোগী নির্বাচন ও পর্যায়সমূহ
প্রকল্পটি সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়নের জন্য চারটি সুনির্দিষ্ট ধাপে বিভক্ত:
ধাপ-১: জরিপ ও যাচাই-বাছাই
- ৬৪ জেলার দরিদ্রতম এলাকাগুলো থেকে আবেদন গ্রহণ।
- সরেজমিনে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অভাবী এবং কাজ করার মানসিকতা আছে এমন ব্যক্তি নির্বাচন।
ধাপ-২: প্রশিক্ষণ ও দ্বীনি তালীম
- কারিগরি প্রশিক্ষণ: সেলাই, ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা বা কৃষি বিষয়ক প্রাথমিক জ্ঞান।
- নৈতিক শিক্ষা: উপকরণ হস্তান্তরের পূর্বে সালাত, সিয়াম, হালাল-হারাম এবং সামাজিক আচরণবিধি সংক্রান্ত কর্মশালা।
ধাপ-৩: উপকরণ বিতরণ যোগ্যতা ও এলাকার চাহিদা অনুযায়ী নিম্নোক্ত উপকরণ প্রদান:
- অসহায় নারীদের জন্য সেলাই মেশিন।
- পুরুষদের জন্য ভ্যানগাড়ি বা রিকশা।
- ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য দোকানের মালামাল বা পুঁজি।
- কৃষিজীবীদের জন্য বীজ, সার ও কৃষি সরঞ্জাম।
ধাপ-৪: ফলো-আপ ও মনিটরিং
- উপকরণ পাওয়ার পর ব্যক্তিটি সঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা।
৩. বাজেট ও ব্যয়ের খাত
প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ব্যয়কে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
- উপকরণ ক্রয়: সেলাই মেশিন, ভ্যান বা ব্যবসার মালামাল কেনা।
- পরিবহন ব্যয়: উপকরণগুলো উপকারভোগীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।
- ব্যবস্থাপনা: প্রশিক্ষণ আয়োজন, যাচাই-বাছাই এবং প্রশাসনিক তদারকি।
৪. প্রকল্প এলাকা ও সময়কাল
- এলাকা: সমগ্র বাংলাদেশের ৬৪ জেলার দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চল।
- মেয়াদ: বার্ষিক ভিত্তিতে (প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে যাচাই ও বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে)।
৫. কেন এই প্রকল্প আলাদা?
ইতিহাস ফাউন্ডেশন কেবল পেটের ক্ষুধার সমাধান চায় না, বরং আত্মার খোরাকও নিশ্চিত করে। আমরা বিশ্বাস করি, একজন স্বচ্ছল মানুষ যখন একইসাথে নীতিবান হন, তখন সমাজ থেকে অপরাধ ও দারিদ্র্য উভয়ই দূর হয়।
মানবতার সেবায় এগিয়ে আসুন
আপনার একটি ছোট দান, বদলে দিতে পারে একটি অসহায় শিশুর জীবন।
অনুদান পাঠানোর মাধ্যম:
বিকাশ (পার্সোনাল): ০১৭১২-৮১২৬৩৫
(টাকা পাঠানোর পর নিচের ফরমটি পূরণ করুন)
